Showing posts with label সময়ের আর্তনাদ. Show all posts
Showing posts with label সময়ের আর্তনাদ. Show all posts

Tuesday, December 22, 2020

আমি উন্মাদ কবি


আমি জলজ্যান্ত পাথর

নিজেকে হারানোর আর্তনাদ কখনো আমায় আঘাত‌‌ করেনি।

আমি পোড়া বাড়ি

সুখের অভাবে নিজেকে পুড়িয়েছি বহুকাল ধরেই।

আমি মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা

পাহাড় সমান একাকিত্ব আমার বুকে।

আমি নীলরঙা আকাশ

বিষাদের তান্ডব নৃত্য বহমান আমার প্রতিটি মুহূর্তে।

আমি নিতান্তই বেহিসেবি

প্রাপ্তির খাতায় বাকি রেখে কাটিয়ে দিচ্ছি বেশ।


আমি সময়ের স্পন্দন

আমি অদৃশ্য অন্ধকার

আমি মহাকাল

আমি বেঁচে থাকা এক উন্মাদ কবি

আমি কবিতা লিখি,

আমি আকি তোমাদের ছবি।


আমি উন্মাদ কবি


Share:

Thursday, June 27, 2019

মিস করছি ভীষণ - ভাবুক

ব্যস্ত ছিলে খুব?
নাকি ঘুমের সাগরের দিয়েছিলে ডুব?
মেসেজ দিয়েও পাইনি উত্তর,
এখনও কেন তুমি চুপ?

ভুলেই তো গেছো আমায়
নাই কোনো মুল্য,
আছি আছি বলে সম্পর্কটা
আর কতকাল ঝুললো?


কত যে হলো বকা
কথা হয়না অনেক্ষন!
ঝুম বৃষ্টির মাঝরাতে
তোমায় মিস করছি ভীষণ।

২৭ জুন ২০১৮
রাত ১২ টা

Share:

Wednesday, June 26, 2019

জীবনের লড়াই

জীবনের বাস্তবতা আসলেই খুব কঠিন।প্রতিনিয়ত কেটে যায় চাওয়া আর পাওয়ার ক্যালকুলেশনে। স্বল্প পরিসরের জীবনকে দীর্ঘতম করা মানুষের আজন্ম প্রয়াশ। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ না চাইলেই পেয়ে যায়, কিন্তু চাওয়ার পাওয়াটা সবসময় সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনা। আর না পাওয়ার চেতনা মানুষকে নতুন করে চাইতে শেখায়। মনের গহিনে বুনতে শেখায় নতুন স্বপ্ন।

আমরা সবাই নিজেকে নিজের স্বপ্নের পৃথিবীতে রাজা ভাবি। অনেক ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলি স্বপ্ন কাব্য। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মানুষ মৃত্যু দুয়ারে এসেও ছোট্ট একটি অনুপ্রেরণা খুঁজে বাঁচার জন্য।

কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ তার অনেক স্বপ্ন পূরনের খুব কাছাকাছি গিয়েও স্বপ্নগুলো পূরন করতে পারেনা। কেই কেউ স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট নিতে নিতে স্বপ্নহীন হয়ে একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। আবেগ অনুভূতি সব বিসর্জন দিয়ে হয়ে যায় পাগল প্রায়।
আমাদের সমাজে একে অন্যের দেখা স্বপ্নকে শ্রদ্ধা সম্মান করতে জানেনা।  স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রেরণা তো দিতে পারেনা। বরং স্বপ্ন পূরণের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবেই চলতে থাকে আমাদের জীবনের ভাঙা গড়ার লড়াই। তবে মাঝে মাঝে সময়গুলো খুব এলোমেলো ভাবে যেন পেছন ফিরে ডাকে। মনে করিয়ে দেয় পেলে আসা স্বপ্ন গুলির কথা। আর এটাই বাস্তবতা। কিন্তু স্বপ্ন দেখা মানুষ গুলি কঠিন বাস্তবতা সহজে মেনে নিতে পারেনা।স্বপ্নকে জয় করার লক্ষ বাদ দিয়ে লক্ষভ্রষ্ট হওয়া মানুষগুলো একসময় ব্যস্ত হয়ে যায় স্মৃতি হত্যার  লড়াইয়ে। সেটা হয়ে না হয়ে ওঠলেও জীবনের ক্যালকুলেশন টা একসময় ঠিকই মিলে শূন্যে পরিনত হয়।

~ ইসমাইল হোসেন

Share:

Tuesday, March 12, 2019

এবার তোরা মানুষ হ- ৩

জীবনটা কত ঠুনকো, না?? কত সহজেই নামের পাশে মৃত লেখা হয়। নামের আগে মরহুম শব্দ ব্যবহার করা হয়।
মৃত্যু সে তো সস্তা জিনিস!
যখন তখন মৃত্যু হয়। রাস্তার মোড়ে গাড়ির তলে, রেল লাইনে, মাঝির নৌকায়, বোটে কিংবা লঞ্চে। US Bangla এর মতো  ছিটকে পড়া কত বিমানে।
মৃত্যু আসলেই সস্তা জিনিস!
খাদ্য,বস্ত্র চিকিৎসার অভাবে কত লাশই পাওয়া যায়। কত মানুষ প্রাণ দিচ্ছে শাড়ির আঁচল কিংবা দড়িতে, কেওবা বিষের শিশি বা ঘুমের বড়িতে। ডাক্তারের হাতে মৃত্যও কম নয়।
মৃত্যু কত সহজ! মৃত্যুর ইতিহাস ও তো কত! বোমা বারুদ, কামান, পাহাড় চাপা,  আগুনের লেলিহান শিখা সৃষ্টির করে নতুন নতুন মৃত্যুর সংবাদ।
কিন্তু জন্ম-
সে তো এতো সস্তা না, সহজ না!
কতরাত নির্ঘুম কাটাতে হয় একটা জন্মের জন্য,
কতটি কচি পায়ের আঘাত,
কতটি মাস ধরে সয়ে যেত হয়,
কত ত্যাগ লাগে একটি জন্মের জন্য।
লক্ষ কোটি শুক্রাণুকে লড়াই এর মাঝে একটি মাত্র জন্ম হয়।
একটি জন্মের জন্য একজন মাকে ১০ মাস ১০ দিন নিদারুন কষ্ট করতে হয়।
জন্ম এতো সহজ নয়!
তবুও কিছু অমানুষ কুলাঙ্গারের জন্য এই জন্মের ফসল পাওয়া যায় ডাস্টবিনে, ড্রেনে কিংবা ঝোপে ঝাড়ে। তবে কেন??
কবি নিস্তব্ধ, কবি নিরব। আবার তোরা মানুষ হ‌.......

আবার তোরা মানুষ হ‌-৩
ইসমাইল হোসেন
১২-০৩-২০১৮
Share:

Friday, February 22, 2019

আমার আমি- ইসমাইল হোসেন

মানুষের প্রাপ্তির শেষ নেই। একটা পেলে আরেকটা পেতে চায়। এক ইচ্ছা পূরণ হলে ছুটতে চায় আরেক ইচ্ছে পূরণের জন্য। ছুটিতে ছুটতে একসময় ফুরিয়ে যায়।
বুড়ো হয়।
পেকে যায়।
মরে যায় মানুষ।
তবুও ছোটা। ছোট্ট এই জীবনকে  ফুটিয়ে তোলে মনের আয়নায়। সাজায় লাল নীল স্বপ্নে। স্বপ্ন তো নয়, যেন এক একটি জীবন্ত উপন্যাস। যার প্রতিটি লাইন,প্রতিটি শব্দ মানুষের জীবন থেকে নেওয়া। বাস্তবতা থেকে নেওয়া। জীবনটা এক সময় থেমে যায়। কিন্তু স্বপ্নময় উপন্যাস গুলো থেকে যায় ইতিহাসের পাতায়।  আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের স্বপ্ন গুলোকে সাথে নিয়ে। লড়তে চাই, জিততে চাই জীবন যুদ্ধে।
কারন আমি মানেই আমার জীবন। জীবন যুদ্ধের জয় আমার জয়।
আমার আমি।
আমার অস্তিত্ব আমি।
আমার স্বপ্ন আমি।

~ ইসমাইল হোসেন
২০-০২-২০১৮
Share:

Thursday, August 30, 2018

ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে- ভাবুক

অত:পর একদিন ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে,
ভালোবাসাহীন নগরে রাত্রি জেগে হবেনা আলাপ মুঠোফোনে।
রাস্তার মোড়ে কোনো যুবক দাড়িয়ে থাকবেনা সকালের সতেজ গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা হাতে। গাছের ছায়ায় কিংবা পার্কের বেঞ্চিতে পাওয়া যাবেনা কপোত কপোতি। সন্ধার পরেই জ্বলে উঠবে নিয়নবাতি। কিন্তু আলোকিত হবেনা কোনো প্রেম প্রিয়াসীর জুটি। দেখা যাবেনা যুগল অবস্থায় থাকা দুটি আস্থার হাত।
ভালোবাসার কথামালা ফুরিয়ে যাবে, চোখের ভাষায় অবাক হওয়ার চাহনিটা পাওয়া যাবেনা ।
সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে পড়বে।

আজ আমরা পার করছি তেমনই এক দু:সময়।
যেখানে অমূল্য ভালোবাসারা মিথ্যে ফেরি করে ফিরে - অচেনা সব অবয়ব, লোভাতুর দৃস্টি নিয়ে।
যেখানে ভালোবাসা বলতে কিছুই থাকেনা। থাকে শুধু নিজের স্বার্থটা।
যেখানে মিথ্যে ভালোবাসা গুলোর জয়গান হয়, আর সত্যিকারের ভালোবাসারা মূল্যহীন হয়ে বালিশ ভেজায়।
যেখানে ভালোবাসাকে প্রিয় মানুষের কষ্টে ছটপট করে নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হয়।

তবুও আমরা ভাবি টিকে থাকুক আমাদের সবার ভালোবাসা। কিন্তু আসলেই কি ভালোবাসারা এতো কিছুর পর টিকে থাকে? নানা প্রতারনা আর বিশ্বাসঘাতকতার পর কি পাওয়া যায় ভালোবাসাদের? না, কখনই টিকে থাকেনা, পাওয়া যায় না ভালোবাসার অস্তিত্ব।

দেখবেন একদিন ভালোবাসারা পালিয়ে যাবে, হারিয়ে যাবে আমাদের নগরী থেকে। আরে ভালোবাসার দায় পড়েনি এ মূল্যবোধহীন সমাজে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে ।
অত:পর একদিন ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে! !

ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে ।
~ইসমাইল হোসেন ভাবুক

Share:

Saturday, June 9, 2018

নট ফর সেল (১)- ভাবুক

দেহ বহুকাল আগে থেকে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়ে আসছে। আমাদের সমাজে দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদাও ব্যাপক। রাত হলেই বিভিন্ন বেশ্যা গলি বা পতিতালয়ে দেখা যায় ক্রেতা বিক্রেতার ভীড়।তাছাড়াও এখন আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা সবই বিক্রি হয়। সবার আকর্ষন এখন সুন্দর কাগজে মোড়ানো পণ্যের প্রতি। পন্যের গুনাগুন দেখা মুখ্য বিষয় নয়। পঁচা পন্যে যদি কিছুটা সুগন্ধি ছিটিয়ে সুন্দর থেকে ডিব্বায় ভরে রাখা হয়, তখন এর ক্রেতার অভাব হয়না। কেননা আমাদের মস্তিষ্কে পঁচন ধরেছে। ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা যেদিন থেকে আধুনিক হচ্ছি, সেদিন থেকেই বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে বড় হচ্ছি।  তা নাহলে কি পশ্চিমা বিশ্বের নগ্নতায় ভরপুর থাকা পোশাক গুলোকে কেন আধুনিক পোশাক বলা হয়?  কেন  প্রতিনিয়ত দেশে ধর্ষনের মতো জগন্য কর্মকান্ড ঘটে? আধুনিকতা প্রকাশ করতে আমাদের মিডিয়া জগত এতোই নোংরা হচ্ছে যে একটা মুভি দূরে থাক, বিজ্ঞাপন গুলোও পরিবারের সবাই মিলে দেখতে দ্বিধাবোধ করি। এসবের মূলে রয়েছে আমাদের চরিত্রটা। কখন যে নিজের চরিত্রটাকে বিসর্জন দেয় তা আমরা নিজেও টের পাইনা। একটা মানুষের সব গুনাবলি বিবেচনা করা হয় চরিত্র দিয়ে। আর এটাকেই আমরা কিছু আবেগ অনুভূতির বিনিময়ে বিক্রি করে ফেলি। চরিত্রের মূল্য আবেগ অনুভূতির মতো এতো স্বল্প নয়।এটার বিস্তরতা হিসেব করলে সমগ্র আকাশ ছাড়িয়ে যাবে। যদি বলেন উচ্চতা, তাহলে সুউচ্চ পাহাড়ও চরিত্রের মূল্য নির্ধারন করতে পারবেনা। আমার আপনার আধুনিকতা তখনই সমাজকে সুন্দর করবে, যখন এই বিশাল মূল্যের চরিত্রের গায়ে সিলগালা দিয়ে তালা লাগিয়ে বলতে পারবেন "Sorry! NOT FOR SALE!"

~নট ফর সেল (১)
~ইসমাইল হোসেন (ভাবুক)

Share:

Tuesday, December 19, 2017

পথশিশুরাও মানুষ

অনিশ্চিত জীবনের দিকে তারা ছুটে চলছে অবিরাম। বহির্মুখী উন্মত্ততা তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত পথেঘাটে।
ব্যস্ত এই শহরে অসংখ্য মানুষের ছুটোছুটি। নিত্যপ্রয়োজনে গ্রাম থেকে লোকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে এই শহরে পাড়ি জমায়। সৎ, অসৎ/নৈতিক, অনৈতিকতার সংমিংশ্রণেই বিচিত্র পৃথিবী। মানুষের ভেতর থেকে যখন মানুষ্যত্ববোধটুকু উঠে যায়, তখন, সে আর মানুষ থাকে না। সে হয়ে যায় মানুষরূপী পশু। আমাদের আশেপাশে অনেক লোকের সমাগম, সহবাস। সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়েও মানুষ বিভিন্ন উপায়ে ভিন্ন ভিন্ন অপকর্মে মত্ত।
পার্থিব জীবনে বেঁচে থাকার সবচেয়ে মৌলিক বিষয় হলো খাদ্য। একজন মানুষ যখন এই সুবিধাটুকু থেকে বঞ্চিত হয় ঠিক তখনি তার মাঝে অনৈতিকতার আক্রোশ জন্ম নেয়। আমার, আপনার মতো মানুষেরা যখন তাদের একবেলা খাবারের পরিবর্তে পেটে লাথি মেরে দিই, একটি রুটির পরিবর্তে তাদের মা-বাপ তোলে গালি দিই। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিই নিজ আঙ্গিনা থেকে। একজন পাঁচ/ছয় বছরের শিশু যখন বাল্যকাল থেকে এসবের মুখোমুখি হয়, তখন, সে কোনদিকে যাবে? তার সামনে অনিশ্চিত জীবন। কোথায় যাবে সে? সে নিজেও জানে না। ছোটকাল থেকে মানুষের বকাঝকা আর লাথি গুতো খেয়েই তারা বড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারাই দেশের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ছিন্তাই, অপহরণকারী, চুরিডাকাতি, খুনখারাবি তো তাদের মধ্য থেকেই তৈরি হয়। কিন্তু, একটা কথা থেকেই যায়। তাদের পরিচালনা বা দিকনির্দেশনাকারীরা অবশ্য মুখোশধারী কেউ।
ঢাকা শহরের অলিগলিতে, ফুটপাথের কিনারে, স্টেশন, বাস স্টপে। সবখানে তাদের আনাগোনা। ছোটছোট বাচ্চাদের যখন দেখি মানুষের কাছে হাত পাততে, তখন লজ্জায় মাথা নুইয়ে আসে।
ঘৃণায় গা রি রি করে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে তারা আসেনি, তাদের আনা হয়েছে। সমাজের মানুষরা তাদের আনতে বাধ্য করেছে! এমন অনাথ শিশুরা তো জন্মই নিয়েছে কোনো কুলাঙ্গার আর কুলাঙ্গিরিনীর মিলনে। আর তাদের দিয়ে ভিক্ষা করিয়ে দিনশেষে সব টাকা লুটে নিয়ে নেয় এক দল অপরাধচক্র। বিনিময়ে তাদের সামান্য আহার আর স্বল্প টাকা দেওয়া হয় হয়তো। গোপন সূত্রে জানা গেছে এই অপরাধচক্র বাহিনীরা গ্রাম অঞ্চল থেকে বা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাচ্চাদের অপহরণ করে। অতঃপর সুযোগ বুঝে কোনো একসময়ে তাদের হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু বানিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেয় ভিক্ষাবৃত্তির জন্য।
মানুষ যেন আজ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে গেছে। ছোটোছোটো বাচ্চারা এহেন ঘৃণ্য কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের মানিব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালায়। বড়ো বড়ো সন্ত্রাস তো তারাই হয়। এখানে যদি আমরা বলি তারা দেশের জন্য হুমকি। তাহলে, আমিও বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলব হ্যাঁ, কিন্তু, দেশকে এই হুমকি থেকে বাঁচাতে হলে তো তাদের মারধর বা জেল হাজতে ঢুকিয়ে লাভ নেই। প্রথমে তাদের দিকনির্দেশনাকার
ী মুখোশধারী লোকদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করে দেওয়া উচিৎ। কিন্তু, কিছু বিষয় আমাকে ভিষণভাবে ভাবিয়ে তোলে। জেল হাজতে ঢুকালেই যে তারা বড়ো কোনো পীর আউলিয়া হয়ে বেরুবে সেটা কিন্তু প্রশ্নবোধক থেকেই যায়!
তবে, আমরা চেষ্টা তো করে দেখতে পারি!
আমরা যুবকরাই তো ভবিষ্যতে এদেশ পরিচালনা করব। আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনা দ্বারাই আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব। কিন্তু, আমাদের মাঝে যদি সুস্থ চিন্তাভাবনা ছাড়া ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ না হয়ে বরং যারা একাজের প্রতি উৎসাহী তাদের হেয় প্রতিপন্ন করি, তাহলে তো আমরা নিজেরাই অসচেতন। আর অসচেতন ব্যক্তি যদি লোকসম্মুখে বগল বাজিয়ে বলে বেড়ায় আমি একজন সচেতন ব্যক্তি! তাহলে, এমন ব্যক্তি মহোদয়দের কি করা উচিৎ সেটা পাঠক-ই বিবেচনা করবেন।
এবার মূল কথায় আসা যাক!
আমরা এমন কয়েকজন পথশিশুদের চিনি যারা প্রতিদিন রুটিন মাফিক এলাকা ভিত্তিক বা শহরের অলিগলি অথবা বাস, পার্কে কালেকশন করে থাকে। ছোট্ট একটি কাগজে লিপিবদ্ধ করা থাকে যে, আমার নাম মালা, আমার আব্বুর ক্যান্সারজনিত রোগের কারণে হাসপাতালে শয্যাশয়ী। আপনাদের একান্ত আর্থিক সহায়তা কাম্য। ছোট্ট একটা কাগজে লেখা থাকে এরুপ। একবার এক ছোট্ট বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হয় তোমার আব্বু কোন হসপিটালে ভর্তি! এমন বিস্ময়কর প্রশ্ন শুনার জন্য মনে হয় তারা একেবারেই অপ্রস্তুত! কপাল কুঁচকে উত্তর না দিয়েই দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
তার মানে অবশ্যই এটি কারো দিকনির্দেশনায় করছে তারা। নাহয়, মানুষের প্রশ্নে তারা আড়াল হয় কেন? কারো জিজ্ঞাসায় বিস্মিত হয় কেন?
এসমস্ত শিশুদের এই অপরাধচক্রগুলো থেকে বের করতে হবে।
তাদের সুশিক্ষায় সঠিক দিকনির্দেশনায় আগামীর পথচলাকে সুদৃঢ় করতে হবে। কিন্তু, তাদের এই দায়িত্ব বহন করবে কারা? যারা দারিদ্রতার কারণে নিজ সন্তানদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়। তাদের কী করবেন?
আমরা তরুণরাই একাজে এক পা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। যারা ক্ষুধার তাড়নায় মানুষরূপী পশুদের গোলামি করে প্রতিনিয়ত। যারা এমন ঘৃণ্যকাজে হতদরিদ্র পথশিশুদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহায়তা নিব। তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।
আর যেসমস্ত দরিদ্র পরিবারেরা তাদের অক্ষমতার বিপরীতে নিজেদের সন্তাদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে অযাচিত। আমরা তাদের কাছে যাব, কথা বলব। সামর্থ্যানুযায়ী তাদের সন্তান এবং পরিবারে আর্থিক সহায়তা করব। সন্তানদের স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিব।
কিন্তু, তরুণরা অনেক কিছু করার ইচ্ছে করলেও অর্থের জন্য তাদের মহৎ কাজগুলোকে নিয়ে সম্মুখ পানে এগিয়ে যেতে পারেনা। এহেন পরিস্থিতিতে, সমাজের বিত্তবান, প্রভাবশালী, রাজনীতিবিদ, এবং সর্বপ্রকার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত।
বিত্তবান বা সমাজের উঁচুপর্যায়ের লোকদের নিকট আমার আবেদন।
হে প্রিয় সমাজপ্রগতিরা! আপনারা ঘরে বসে নেতৃত্ব দিন। আমরা মাঠেঘাটে কাজ করব দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। দেশের আগামী হুমকির মুখ থেকে দেশকে রক্ষা করব আমরা তরুণরা।

Share:

Latest Posts

Search This Blog

Contact Form

Name

Email *

Message *

Followers