Wednesday, September 26, 2018

রঙিন স্বপ্ন- ভাবুক


জীবনটা খুব পানসে পানসে লাগে। কি আছে এই জীবনে? স্বল্প দৈর্ঘের সময়টায় সাজাই নানা লাল নীল স্বপ্ন।
কিছু স্বপ্ন আর লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথচলা।  যেখানে পরাজয়ের শঙ্কা প্রতিটা পদক্ষেপে।তবুও বেঁচে আছি, তা সৌভাগ্য নয় আর কি!
.
জোৎস্নাময় রাত, নীল আকাশে সাদা মেঘের তারা, হু হু করে বয়ে যাওয়া দখিনা বাতাস, আকাশ সমান পাহাড়, নদীর জলের কলকল ধ্বনি, রাতের নিস্তব্ধতা প্রতিটি মানুষকে বাঁচতে শেখায়। ইচ্ছে হয় যেন যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকি।
.
বছরের পর বছর ঘুরে শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত - আগে যেমন আসতো, এখনো তেমনি আসে, ভবিষ্যতেও আসবে। কিন্তু মানুষ আসে একবারই, যখন যায় চিরকালের জন্যই যায়; কেউ শুকনো পাতার মতো ঝরে বিলীন হয়ে যায়, কেউ রেখে যায় অবিনাশী স্মৃতি ।
.
জন্মগ্রহন মানেই প্রতিটি মানুষের পরকালের টিকিট হাতে নিয়ে পথের পথ ছুটা। সেটা বন্ধুদের সাথে খাবার কাড়াকাড়ি করে হোক বা কোনো অপিরিচিতা রহস্যময়ী সুন্দরী নারীর অপলক চাহনিতে।
দৈর্ঘের হিসেবে সময়টা স্বল্প হলেও আমাদের স্বপ্নগুলো গুলো স্বল্প নয়।
.
স্বপ্ন জয়ের প্রত্যাশা মানুষকে কাঁদায় ।দুঃখ-কষ্ট  জীবনের আরেক নির্যাস । দুঃখের মতো পরশ পাথর আর নেই । মেঘাচ্ছন্ন আকাশের আড়ালে তেজোদ্দীপ্ত সূর্যের মতো দুঃখের ওপারে থাকে অনাবিল সুখের হাতছানি । কে না জানে, যারা জীবনে অনেক দূঃখ-কষ্ট ভোগ করেছে তারাই সুখের প্রকৃত দাবিদার।
.
সুখ দুঃখের হিসেব মেলানো সম্ভব হয়না। সম্ভব হয়না সব স্বপ্নকে জয় করতে। মাঝে মাঝে জীবনটাকে নিরস মনে হয় । যেন পুরোটাই যান্ত্রিক আর একঘেয়ে।তবুও আমরা অপেক্ষায় থাকি কিছু অনাগত রঙধনুর। বুনি পাহাড় সমান স্বপ্ন।

© ইসমাইল হোসেন
Share:

Tuesday, September 4, 2018

জীবন ও চাওয়া- ভাবুক


বেঁচে থাকা‌ আর‌ চাই শব্দ একে অপরের সমানুপাতিক। চারিদিকে শুধু চাই আর চাই। যেন সীমাবদ্ধতা নেই। তবুও তো জানতে ইচ্ছে হয়, আমাদের ঠিক কতটা চাই? আর কতটা হলেই বা একজন মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস পেলে বলবে- থাক! আর না। যথেষ্ট পেয়েছিঙ! আসলে,মানুষের কাছে কিংবা মানুষের বিবেকের কাছে এ প্রশ্ন রাখা নিতান্তই অমূলক। মানুষের চাওয়ার শেষ নেই। মানুষ এখন একসাথে দুটি সিড়ি অতিক্রম করতে চায়। আর প্রতিটি সিড়ি অতিক্রম করতে শেখে অন্যকে ধোকা দেওয়া কিংবা প্রতারণা করার কৌশল।
Share:

Thursday, August 30, 2018

ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে- ভাবুক

অত:পর একদিন ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে,
ভালোবাসাহীন নগরে রাত্রি জেগে হবেনা আলাপ মুঠোফোনে।
রাস্তার মোড়ে কোনো যুবক দাড়িয়ে থাকবেনা সকালের সতেজ গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা হাতে। গাছের ছায়ায় কিংবা পার্কের বেঞ্চিতে পাওয়া যাবেনা কপোত কপোতি। সন্ধার পরেই জ্বলে উঠবে নিয়নবাতি। কিন্তু আলোকিত হবেনা কোনো প্রেম প্রিয়াসীর জুটি। দেখা যাবেনা যুগল অবস্থায় থাকা দুটি আস্থার হাত।
ভালোবাসার কথামালা ফুরিয়ে যাবে, চোখের ভাষায় অবাক হওয়ার চাহনিটা পাওয়া যাবেনা ।
সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে পড়বে।

আজ আমরা পার করছি তেমনই এক দু:সময়।
যেখানে অমূল্য ভালোবাসারা মিথ্যে ফেরি করে ফিরে - অচেনা সব অবয়ব, লোভাতুর দৃস্টি নিয়ে।
যেখানে ভালোবাসা বলতে কিছুই থাকেনা। থাকে শুধু নিজের স্বার্থটা।
যেখানে মিথ্যে ভালোবাসা গুলোর জয়গান হয়, আর সত্যিকারের ভালোবাসারা মূল্যহীন হয়ে বালিশ ভেজায়।
যেখানে ভালোবাসাকে প্রিয় মানুষের কষ্টে ছটপট করে নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হয়।

তবুও আমরা ভাবি টিকে থাকুক আমাদের সবার ভালোবাসা। কিন্তু আসলেই কি ভালোবাসারা এতো কিছুর পর টিকে থাকে? নানা প্রতারনা আর বিশ্বাসঘাতকতার পর কি পাওয়া যায় ভালোবাসাদের? না, কখনই টিকে থাকেনা, পাওয়া যায় না ভালোবাসার অস্তিত্ব।

দেখবেন একদিন ভালোবাসারা পালিয়ে যাবে, হারিয়ে যাবে আমাদের নগরী থেকে। আরে ভালোবাসার দায় পড়েনি এ মূল্যবোধহীন সমাজে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে ।
অত:পর একদিন ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে! !

ভালোবাসারাও পালিয়ে যাবে ।
~ইসমাইল হোসেন ভাবুক

Share:

বিশ্বাস- ভাবুক

বিশ্বাস জিনিসটা খুবই দামি। একটা বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে কয়েকটা মানুষের জীবন।পৃথিবীতে প্রতি মূহুর্তে সহস্র বিশ্বাস ভাঙ্গার কর্কট শব্দে দ্বি খন্ডিত হচ্ছে অগনিত মানুষের হৃদয়। এরপরেও পৃথিবীটা এখনও বিশ্বাসের উপর স্থীর। কেউ একজন বিশ্বাস ভাঙ্গবে জেনেও আমরা বিশ্বাসের তীরটা তার দিকে ছুঁড়ে মারি। আর লক্ষ্য একটাই, আমার তীরটা কখনও লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।

Share:

Tuesday, July 31, 2018

আমার অজানা গন্তব্য- ভাবুক

হেঁটে যাই নির্জন গ্রামের সরু পথ ধরে। শেষ বিকেলের পড়ন্ত রোধের আলো গাছের পাতার ফাঁকে যেন আলতো ছুঁয়ে যায়। গাছের শুকনো পাতাগুলোর পায়ের তলায় পড়ে মরমর শব্দটা আমাকে ভাবিয়ে তোলে। গাছে ছোট্ট ছোট্ট ঢালপালা গুলো যেন আমায় অভ্যর্থনা দেয়। যেন জিগ্যেস করে-
"হে পথিক! যাত্রা তোমার কতদিনের?"
 
উত্তর দিতে বড় ইচ্ছে হয়। কিন্তু উত্তরটা আমার জানা নয়। সৃষ্টা নিজ হাতে উত্তরটা রেখে দিয়েছে। তাই মাথা নিছু করে হেঁটে যাই।  পথে দেখা হয় কত কৃষক, শ্রমিক,দিনমুজুর আর নামীদামি ব্যাক্তিদের সাথে । তারাও নাকি আমার মতো কয়েকদিনের পথিক! আস্তে আস্তে সুর্যের আলো লাল হয়ে হারিয়ে যায় । রাতের আধার ঘনিয়ে আসে। কিন্তু আমার পদারচনা শেষ হয়না। রাত-দিন, সকাল -বিকেল চলতেই‌ থাকে‌। হাটছি তো হাটছিই। মন চাইলে পিছনে ফিরে দেখি কি হয়েছিলো অতিতে। হাসি কান্না, সুখ দুঃখের মাঝেও থামেনা আমার এই ভ্রমন।

আমি হেঁটে যাই, চলে‌ যায়,‌ছুটে যাই আমার অজানা গন্তব্যে,,,,,।

~ আমার অজানা গন্তব্য
© ইসমাইল হোসেন

Share:

Saturday, June 9, 2018

নট ফর সেল (১)- ভাবুক

দেহ বহুকাল আগে থেকে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়ে আসছে। আমাদের সমাজে দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদাও ব্যাপক। রাত হলেই বিভিন্ন বেশ্যা গলি বা পতিতালয়ে দেখা যায় ক্রেতা বিক্রেতার ভীড়।তাছাড়াও এখন আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা সবই বিক্রি হয়। সবার আকর্ষন এখন সুন্দর কাগজে মোড়ানো পণ্যের প্রতি। পন্যের গুনাগুন দেখা মুখ্য বিষয় নয়। পঁচা পন্যে যদি কিছুটা সুগন্ধি ছিটিয়ে সুন্দর থেকে ডিব্বায় ভরে রাখা হয়, তখন এর ক্রেতার অভাব হয়না। কেননা আমাদের মস্তিষ্কে পঁচন ধরেছে। ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা যেদিন থেকে আধুনিক হচ্ছি, সেদিন থেকেই বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে বড় হচ্ছি।  তা নাহলে কি পশ্চিমা বিশ্বের নগ্নতায় ভরপুর থাকা পোশাক গুলোকে কেন আধুনিক পোশাক বলা হয়?  কেন  প্রতিনিয়ত দেশে ধর্ষনের মতো জগন্য কর্মকান্ড ঘটে? আধুনিকতা প্রকাশ করতে আমাদের মিডিয়া জগত এতোই নোংরা হচ্ছে যে একটা মুভি দূরে থাক, বিজ্ঞাপন গুলোও পরিবারের সবাই মিলে দেখতে দ্বিধাবোধ করি। এসবের মূলে রয়েছে আমাদের চরিত্রটা। কখন যে নিজের চরিত্রটাকে বিসর্জন দেয় তা আমরা নিজেও টের পাইনা। একটা মানুষের সব গুনাবলি বিবেচনা করা হয় চরিত্র দিয়ে। আর এটাকেই আমরা কিছু আবেগ অনুভূতির বিনিময়ে বিক্রি করে ফেলি। চরিত্রের মূল্য আবেগ অনুভূতির মতো এতো স্বল্প নয়।এটার বিস্তরতা হিসেব করলে সমগ্র আকাশ ছাড়িয়ে যাবে। যদি বলেন উচ্চতা, তাহলে সুউচ্চ পাহাড়ও চরিত্রের মূল্য নির্ধারন করতে পারবেনা। আমার আপনার আধুনিকতা তখনই সমাজকে সুন্দর করবে, যখন এই বিশাল মূল্যের চরিত্রের গায়ে সিলগালা দিয়ে তালা লাগিয়ে বলতে পারবেন "Sorry! NOT FOR SALE!"

~নট ফর সেল (১)
~ইসমাইল হোসেন (ভাবুক)

Share:

Thursday, June 7, 2018

আমার কবে ছুটি হবে- ভাবুক

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হচ্ছে।  বসে আছি গায়ের মাথার এক দীঘির পাড়ে। সূর্যের রক্তিম আলো এসে গায়ে পড়তেছে।চারিদিকটা কেমন নিস্তব্ধ। পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষন পর পর কৃষকেরা বাড়ি যাচ্ছে। শুধু দীঘির পাড়ের গাছগাছালির উপর বসা পাখিগুলোরই কিছিরমিছির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এইতো কিছুদিন আগে  সফিক চাচার জমিতে কত খেলেছি।ক্রিকেট ফুটবল কাবাডি আর গোল্লাছুট। সেই সব বন্ধুগুলা আজ কোথায় আছে ঠিক নেই।  কেউ পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আবার অভাব অনটনে পড়াশুনা বাদ দিয়ে কর্ম জীবনে পা রেখেছে। আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সবাই মোটামুটি প্রকৃতি থেকে দূরে। যেসময় সফিক চাচার জমিতে চার,ছয় আর উইকেট নিয়ে চিৎকার আনন্দ হতো, এখন সেসব কিছু মোবাইলের WCC2, Real Cricket, বা PC এর Ashes Cricket এ আবদ্ধ। এখন আর মাঠে গোল উল্লাস হয়না। সেটাও হারিয়ে‌ গেছে Dream League Soccer, Pes 18, বা Real Football নামক গেমস এর মাঝে। বন্ধু গুলো যেন প্রকৃতি থেকে ছুটি নিয়ে নিয়েছে।  মানুষগুলোও খুব অদ্ভুত হয়েগেছে। সবসময় সবার মাঝে দুঃখ বিরাজ করে। থাকে না পাওয়ার আর্তনাদ। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, সবার দুঃখগুলো যদি আধুনিকতার ছোঁয়ার ShareIT বা Bluethoot দিয়ে নিজের করে নিই,দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্ত করি সবাইকে। কিন্তু পারিনা, সেই অক্ষমতা সবসময় আমাকে কুড়েকুড়ে খায়। আমি আর পারছিনা এই অদ্ভুদ জগতে থাকতে। আত্নহত্যা যদি মহাপাপ না হতো, সেই কবেল বিদায় নিতাম।
দূরে সন্ধ্যার ট্রেন ঝকঝক করে যাচ্ছে গঞ্জের দিকে। গোধুলীর আলো আমার গায়ে এসে লেপ্টে পড়ছে। তারই মধ্যে শুনা গেলি মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি। দীঘির পাড় থেকে উঠে হাটা ধরলাম মসজিদের দিকে, আর মনেমনে ভাবতে লাগলাম "আমার কবে ছুটি হবে?"

~আমার কবে ছুটি হবে?

ফেসবুকে আমি:
ইসমাইল হোসেন (ভাবুক)
সামু ব্লগে:
স্বচ্ছ দর্পন 
০১-০৫-২০১৮

Share:

Tuesday, June 5, 2018

পথের পথিক-ইসমাইল হোসেন (ভাবুক)

পিচঢালা পথে আমি হেটেছি
অজানা পথের পথিক বেশে,
বিষন্ন পায়ে পিচগলা রোদে
বেশ ক্লান্ত হয়েছি শেষে।
দেখেছি ব্যাস্ত মানুষের
অযথা নিদারুন ছোটাছুটি,
পাতা কুড়ানির মেয়েটার হাতে
দুদিনের বাসি একটি রুটি।
দেখেছি নতুন নতুন স্বপ্ন
ফেরিওয়ালার অক্লান্ত পরিশ্রমে,
দেখেছি বুক ভরা উচ্ছাস
কচুরিপানার হালকা নীল রঙে।
স্কুল-পালানো ছেলেটার হাতে
দেখেছি আকাশী রঙের ঘুড়ি,
হাড় কাঁপানো শীতে থরথরে কাঁপা
ষাট বছরের দরিদ্র বুড়ি।
দেখেছি রাস্তায় থেঁতলে পড়ে থাকা
বেওয়ারিশ মানুষের আর্তনাদ,
দেখেছি প্রতিটি দিনমজুরের
একেকেটি নির্ঘুম দুর্বিষহ রাত।
শুনেছি প্রিয়জন হারানো মানুষ গুলোর
কষ্ট মাখা কন্ঠের আত্ম চিৎকার,
দেখেছি শোষক শ্রেণীর প্রতি
শোষিত মানুষের নিরব ধিক্কার।
দেখেছি বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবার
কুলাঙ্গার সন্তানের জন্য কান্না,
শুনেছি বিধাতার কাছে মিনতি-
"নিয়ে যাও খোদা,আর বাঁচতে চাইনা।"
দেখতে দেখতে ক্লান্ত আমি
রেখে যাচ্ছি আমার পদচিহ্ন,
এই পথিকের পথে আসবেনা কেউ,
সবার পথটাই যেন ভিন্ন ভিন্ন।
,
পথের পথিক
ইসমাইল হোসেন (ভাবুক)
সামু ব্লগে: স্বচ্ছ দর্পন
০৮-১২-২০১৭
,
ব্যাখ্যা: জীবন একটি পথ আর আমরা সেই পথের পথিক। এই পথটা সবার জন্যই ভিন্ন।জীবন পথে পাড়ি দিতে অনেক কিছুই আমরা দেখতে পাই। পরিচয় হয় অনেক মানুষের সাথে, পরিবেশের সাথে।একসময় সব পদচিহ্ন রেখে আমরা ক্লান্ত হয়ে পথটা শেষ করি।

Share:

Monday, December 25, 2017

তবুও সে খুঁজছে- মাস্টার দ্যা নাঈম

রাতের বেশ্যা দশ মিনিটের জন্য অন্ধকার গলি কিংবা ওভারব্রিজে তার অভিজ্ঞ চোখে খুঁজছে একজন ক্রেতা -নিজের শরীর বিকেয়ে দু'মুঠো অন্ন যোগাবে বলে!খদ্দেরের অভাবে তার ভীষণ মন খারাপ হয়...ছটফট করে খুঁজতে থাকে এ গলি থেকে ও গলি।তবুও সে খুঁজছে...

বাবার কাঁধে বসে খাওয়া ছেলেটা বেকার শব্দ শুনতে শুনতে নিজের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা নিয়ে দিকবেদিক ছুটছে একটা চাকরীর খোঁজে। পত্রিকার পাতায় পাতায় চাকরীর বিজ্ঞাপন অথচ ছেলেটার চাকরী হয়না।তবুও সে বেকার শব্দটার দ্বায়ভার থেকে মুক্তি চায়...!

চেহেরা কালো বলে পাত্র পক্ষ মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় যেই মেয়েটার রাতে ঘুম হয়না ;সেই মেয়েটা একটু সুন্দর হতে কতো চেষ্টাই না করেছিলো।অথচ মেয়েটার মন ছিলো অনেক ভালো।কে দেখে সেই ভালো?
ডিভোর্সি নারী জানে কেমন করে রাতের ভেজা বালিশ সকালে শুকাতে দিতে হয়।রোজ রোজ বুকের যন্ত্রনা চেপে সবার সাথে হাসতে হয়...তবুও সে একটু শুদ্ধহাসির খোঁজে দিশেহারা।সে একটা ভালো পুরুষের সান্নিধ্য চায়।কিন্তু আফসোস তার দিকে কেউ ভালোবাসার দৃষ্টি দিতে চায়না।যারা দৃষ্টি দেয়, তাদের চোখে সে দেখে কামুকতা লালসায় ভরা এক জোড়া পরকীয়ার চোখ।তবুও সে সুখী হতে চায়... যদি মনের রাজ্যে একটু সুখী হওয়া যায়।

মুক্তিচায় বিনা অপরাধে শাসকের জেলখানায় মিথ্যে মামলায় বন্দি হওয়া রাজনীতির কালো থাবায় অতিষ্ঠ জীবন।
ডিপ্রেশনে ভোগা ছেলেটাও খুঁজছে মুক্তির পথ!নিকোটিন পুড়িয়ে কলিজায় ক্ষত হয়েছে তবুও সে এই ঘোর থেকে বের হতে চায়...কিন্তু ছেলেটা অসহায়!

একটা ছেলেকে বিশ্বাস করে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে অতঃপর চরমভাবে ঠকে যাওয়া মেয়েটা মৃত্যুর কোল থেকে ফিরে এসেছে আরেকজোড়া বিশ্বস্ত হাত পাবে বলে!আরেকবার কাউকে বিশ্বাস করবে বলে।

ভালোবেসে প্রেমিকার নামে বুকের জমিন লিখে দিয়ে নিষ্ঠুর ভাবে পরাজিত হওয়া ছেলেটাও স্বপ্ন দেখে সানাই বাজিয়ে গ্রাম কাঁপিয়ে একদিন সে বিয়ে করবে তার চোখে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে।
বিশাল অট্টালিকার মধ্যে থেকেও মনের রাজ্যে অসুখী হয়ে ছটপট করছে নিতাই বাবুর সুন্দরী স্ত্রী পঞ্চমী রানী।এই যে তার টাকা পয়সা সব কিছুই রয়েছে তবুও তার কিসের যেন একটা অভাব,কিসের যেন একটা শুন্যতা!এই শূন্যতাবোধ পঞ্চমীকে গিলে খাচ্ছে ক্রমশ। মেয়েটা বুঝে গেছে মনের শান্তিই আসল।মেয়েটা ভালোবাসা খুঁজছে... খুঁজছে মনের শান্তি।
গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রোদ্দুরে ক্লান্ত পথিক আসবে... এক গ্লাস লেবুর শরবত খাবে এই আশায় শরবত নিয়ে বসে থাকা ছেলেটা আকাশে মেঘ দেখলে কেঁদে উঠে।সে রোদ চায়... প্রচুর রোদ...

মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেটা মধ্যবিত্ত শব্দ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। নিম্নবিত্ত ছেলেটা জানে নিম্নবিত্ত শব্দটা তার মাসতুত ভাই তবুও সে একটু ভালো থাকার পথ খুঁজছে।

মেধাবী গরীব ছাত্রটা খুঁজছে একটা টিউশনি, রাজপথ কাঁপানো ছেলেটা খুঁজছে তার যোগ্য পদ।সবাই খুঁজছে... খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা!

রোমান্টিক প্রেমিকযুগল চায় একটু বৃষ্টি নামুক,প্রেয়সীর হাত ধরে রাজপথ ভিজুক,ভিজুক যত গ্রাম পল্লী আর মাঠঘাট ।
মাথার উপর ছাউনি না থাকা কুসুমের মা -৩ বছরের কুসুমকে বুকে জড়িয়ে প্রভুর দরবারে হাত তোলে এই মেঘে যেন বৃষ্টি না হয় ।
ছাতাবিহীন ক্লান্ত পথিক খুঁজে ফিরে একটা ছায়াধর বটগাছ।
ডাকাত দল খুঁজছে বিদেশ ফেরত টাকাওয়ালা বাবুরামকে।ছিনতা
ইকারী খুঁজছে যাকে তাকে। এভাবেই চলছে খোঁজাখুঁজি...
লেখকেরা খুঁজে একটা বিশ্বস্ত প্রকাশক,নিঃস্বার্থ কিছু পাঠক!পাঠক খুঁজে ভালো কিছু বই...ভালো কিছু লেখক।
রাস্তার টোকাই খুঁজে একটা খালি বোতল,ফুসকা বিক্রেতা খুঁজে কিছু ফুসকাখাদক।

এভাবেই আমরা সবাই খুঁজছি...খুঁজতে খুঁজতে আমরা ক্লান্ত,বড্ড ক্লান্ত,তবুও আমরা খুঁজছি।আমাদের প্রত্যেকের জীবনটাই অপূর্ণতা দিয়ে ভরপুর, এভাবে অশান্তির দাবানল থেকে শান্তির পথে,আঁধার থেকে আলোর পথে,বন্দি থেকে মুক্তি চাইতে চাইতে একদিন অসীম শূন্যতায় পাড়ি দেব।
,
লেখক: মাস্টার দ্যা নাঈম

Share:

Tuesday, December 19, 2017

পথশিশুরাও মানুষ

অনিশ্চিত জীবনের দিকে তারা ছুটে চলছে অবিরাম। বহির্মুখী উন্মত্ততা তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত পথেঘাটে।
ব্যস্ত এই শহরে অসংখ্য মানুষের ছুটোছুটি। নিত্যপ্রয়োজনে গ্রাম থেকে লোকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে এই শহরে পাড়ি জমায়। সৎ, অসৎ/নৈতিক, অনৈতিকতার সংমিংশ্রণেই বিচিত্র পৃথিবী। মানুষের ভেতর থেকে যখন মানুষ্যত্ববোধটুকু উঠে যায়, তখন, সে আর মানুষ থাকে না। সে হয়ে যায় মানুষরূপী পশু। আমাদের আশেপাশে অনেক লোকের সমাগম, সহবাস। সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়েও মানুষ বিভিন্ন উপায়ে ভিন্ন ভিন্ন অপকর্মে মত্ত।
পার্থিব জীবনে বেঁচে থাকার সবচেয়ে মৌলিক বিষয় হলো খাদ্য। একজন মানুষ যখন এই সুবিধাটুকু থেকে বঞ্চিত হয় ঠিক তখনি তার মাঝে অনৈতিকতার আক্রোশ জন্ম নেয়। আমার, আপনার মতো মানুষেরা যখন তাদের একবেলা খাবারের পরিবর্তে পেটে লাথি মেরে দিই, একটি রুটির পরিবর্তে তাদের মা-বাপ তোলে গালি দিই। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিই নিজ আঙ্গিনা থেকে। একজন পাঁচ/ছয় বছরের শিশু যখন বাল্যকাল থেকে এসবের মুখোমুখি হয়, তখন, সে কোনদিকে যাবে? তার সামনে অনিশ্চিত জীবন। কোথায় যাবে সে? সে নিজেও জানে না। ছোটকাল থেকে মানুষের বকাঝকা আর লাথি গুতো খেয়েই তারা বড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারাই দেশের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ছিন্তাই, অপহরণকারী, চুরিডাকাতি, খুনখারাবি তো তাদের মধ্য থেকেই তৈরি হয়। কিন্তু, একটা কথা থেকেই যায়। তাদের পরিচালনা বা দিকনির্দেশনাকারীরা অবশ্য মুখোশধারী কেউ।
ঢাকা শহরের অলিগলিতে, ফুটপাথের কিনারে, স্টেশন, বাস স্টপে। সবখানে তাদের আনাগোনা। ছোটছোট বাচ্চাদের যখন দেখি মানুষের কাছে হাত পাততে, তখন লজ্জায় মাথা নুইয়ে আসে।
ঘৃণায় গা রি রি করে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে তারা আসেনি, তাদের আনা হয়েছে। সমাজের মানুষরা তাদের আনতে বাধ্য করেছে! এমন অনাথ শিশুরা তো জন্মই নিয়েছে কোনো কুলাঙ্গার আর কুলাঙ্গিরিনীর মিলনে। আর তাদের দিয়ে ভিক্ষা করিয়ে দিনশেষে সব টাকা লুটে নিয়ে নেয় এক দল অপরাধচক্র। বিনিময়ে তাদের সামান্য আহার আর স্বল্প টাকা দেওয়া হয় হয়তো। গোপন সূত্রে জানা গেছে এই অপরাধচক্র বাহিনীরা গ্রাম অঞ্চল থেকে বা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাচ্চাদের অপহরণ করে। অতঃপর সুযোগ বুঝে কোনো একসময়ে তাদের হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু বানিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেয় ভিক্ষাবৃত্তির জন্য।
মানুষ যেন আজ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে গেছে। ছোটোছোটো বাচ্চারা এহেন ঘৃণ্য কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের মানিব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালায়। বড়ো বড়ো সন্ত্রাস তো তারাই হয়। এখানে যদি আমরা বলি তারা দেশের জন্য হুমকি। তাহলে, আমিও বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলব হ্যাঁ, কিন্তু, দেশকে এই হুমকি থেকে বাঁচাতে হলে তো তাদের মারধর বা জেল হাজতে ঢুকিয়ে লাভ নেই। প্রথমে তাদের দিকনির্দেশনাকার
ী মুখোশধারী লোকদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করে দেওয়া উচিৎ। কিন্তু, কিছু বিষয় আমাকে ভিষণভাবে ভাবিয়ে তোলে। জেল হাজতে ঢুকালেই যে তারা বড়ো কোনো পীর আউলিয়া হয়ে বেরুবে সেটা কিন্তু প্রশ্নবোধক থেকেই যায়!
তবে, আমরা চেষ্টা তো করে দেখতে পারি!
আমরা যুবকরাই তো ভবিষ্যতে এদেশ পরিচালনা করব। আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনা দ্বারাই আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব। কিন্তু, আমাদের মাঝে যদি সুস্থ চিন্তাভাবনা ছাড়া ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ না হয়ে বরং যারা একাজের প্রতি উৎসাহী তাদের হেয় প্রতিপন্ন করি, তাহলে তো আমরা নিজেরাই অসচেতন। আর অসচেতন ব্যক্তি যদি লোকসম্মুখে বগল বাজিয়ে বলে বেড়ায় আমি একজন সচেতন ব্যক্তি! তাহলে, এমন ব্যক্তি মহোদয়দের কি করা উচিৎ সেটা পাঠক-ই বিবেচনা করবেন।
এবার মূল কথায় আসা যাক!
আমরা এমন কয়েকজন পথশিশুদের চিনি যারা প্রতিদিন রুটিন মাফিক এলাকা ভিত্তিক বা শহরের অলিগলি অথবা বাস, পার্কে কালেকশন করে থাকে। ছোট্ট একটি কাগজে লিপিবদ্ধ করা থাকে যে, আমার নাম মালা, আমার আব্বুর ক্যান্সারজনিত রোগের কারণে হাসপাতালে শয্যাশয়ী। আপনাদের একান্ত আর্থিক সহায়তা কাম্য। ছোট্ট একটা কাগজে লেখা থাকে এরুপ। একবার এক ছোট্ট বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হয় তোমার আব্বু কোন হসপিটালে ভর্তি! এমন বিস্ময়কর প্রশ্ন শুনার জন্য মনে হয় তারা একেবারেই অপ্রস্তুত! কপাল কুঁচকে উত্তর না দিয়েই দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
তার মানে অবশ্যই এটি কারো দিকনির্দেশনায় করছে তারা। নাহয়, মানুষের প্রশ্নে তারা আড়াল হয় কেন? কারো জিজ্ঞাসায় বিস্মিত হয় কেন?
এসমস্ত শিশুদের এই অপরাধচক্রগুলো থেকে বের করতে হবে।
তাদের সুশিক্ষায় সঠিক দিকনির্দেশনায় আগামীর পথচলাকে সুদৃঢ় করতে হবে। কিন্তু, তাদের এই দায়িত্ব বহন করবে কারা? যারা দারিদ্রতার কারণে নিজ সন্তানদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়। তাদের কী করবেন?
আমরা তরুণরাই একাজে এক পা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। যারা ক্ষুধার তাড়নায় মানুষরূপী পশুদের গোলামি করে প্রতিনিয়ত। যারা এমন ঘৃণ্যকাজে হতদরিদ্র পথশিশুদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহায়তা নিব। তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।
আর যেসমস্ত দরিদ্র পরিবারেরা তাদের অক্ষমতার বিপরীতে নিজেদের সন্তাদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে অযাচিত। আমরা তাদের কাছে যাব, কথা বলব। সামর্থ্যানুযায়ী তাদের সন্তান এবং পরিবারে আর্থিক সহায়তা করব। সন্তানদের স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিব।
কিন্তু, তরুণরা অনেক কিছু করার ইচ্ছে করলেও অর্থের জন্য তাদের মহৎ কাজগুলোকে নিয়ে সম্মুখ পানে এগিয়ে যেতে পারেনা। এহেন পরিস্থিতিতে, সমাজের বিত্তবান, প্রভাবশালী, রাজনীতিবিদ, এবং সর্বপ্রকার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত।
বিত্তবান বা সমাজের উঁচুপর্যায়ের লোকদের নিকট আমার আবেদন।
হে প্রিয় সমাজপ্রগতিরা! আপনারা ঘরে বসে নেতৃত্ব দিন। আমরা মাঠেঘাটে কাজ করব দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। দেশের আগামী হুমকির মুখ থেকে দেশকে রক্ষা করব আমরা তরুণরা।

Share:

Latest Posts

Search This Blog

Contact Form

Name

Email *

Message *

Followers